পায়রা বন্দরের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ করার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুন:বাসনের জন্য গৃহিত আবাসন প্রকল্পের ম্যানেজার আজাহার মাহমুদের গাফেলতির কারনে চলতি আমন ধান ঘরে তুলতে পারেনি ৪০ কৃষক পরিবার। জীবন জীবিকার একমাত্র অবলম্ভন আমন ফসল ঘরে তুলতে না পারায় সীমাহীন দু:শ্চিন্তা ও অভাব অনটনে দিন কাটছে তাদের। প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণ করা ভূমিতে অপরিকল্পিতভাবে বালু ভরাট এবং বালুর সাথে আসা সমুদ্রের লবন পানি সঠিকভাবে নিষ্কাশন না করে অবাধে ছেড়ে দেয়ায় কৃষকের প্রায় একশ একর ফসলী জমি চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পরেছে। এতে গত বছরের মত এবারও তারা আমন ফসল ঘরে তুলতে পারেনি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে আর্থিক ক্ষতি পূরণ দাবী করা হয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে কলাপাড়া উপজেলার ৯নং ধুলাসর ইউনিয়নের পূর্ব ধুলাসর গ্রামে সরকারের অধিগ্রহণকৃত জমিতে পায়রা বন্দরের জন্য ভ‚মি অধিগ্রহণ করার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুন:বাসনের জন্য গৃহিত আবাসন প্রকল্পের ভুমি উন্নয়নের কাজ চলছে। এলাকাবাসীরা জানান, প্রকল্পের জন্য ৩২ নং জে এল ধুলাসার মৌজা থেকে প্রায় ৭ শত একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। উক্ত নাল ও নীচু জমি আবাসনের উপযোগি করে গড়ে তুলতে বালু ভরাটের কাজ শুরু হয় গত দুই বছর আগে। সঠিকভাবে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করে অবাধে বালু ফেলার কারণে বালুর সাথে আসা সুদ্রের লবন পানি ছড়িয়ে পরছে প্রকল্পের আশে পাশের জমিতে। এতে কৃষি জমি, ফসলের ক্ষেত, ঘর-বাড়ি, পুকুর, মাছের ঘের ইত্যাদি মারাক্তকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বসত বাড়ির ফলজ ও বনজ গাছ পালা মারা যাওয়ায় এলাকার পরিবেশ ও প্রতিবেশ হুমকীর সম্মুখিন। বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন আবাদী জমিতে ফসল ফলাতে না পেরে গরীব কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পরেছে। তারা পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক বরাবরে এক লিখিত আবেদনের মাধ্যমে ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত এবং ক্ষতিপূরণ দাবী করেছেন। পূর্ব ধুলাসর গ্রামের আ: জব্বারের পুত্র লুৎফর রহমান (৭৫) জানান, আমরা জমি দিয়েছি উন্নয়ন করার জন্য। আমাদের সর্বনাশ করার জন্য নয়। ওই গ্রামের ফয়জদ্দিনের পুত্র রেজাউল করিম মন্টু জানান, আমাদের ক্ষয় ক্ষতির বিষয়ে প্রকণ্প ম্যানেজারের কাছে অভিযোগ দিয়েছি। তিনি এর প্রতিকার না করে উল্টো আমাদের হুমকি ধুমকী দিয়েছেন এবং নৌবাহিনীর ভয় দেখিয়ে চুপ থাকতে বলেছেন।
Leave a Reply